মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ডিজিটাল মেলা-২০১৩

যশোর ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৩

 

 ডিজিটাল জেলার অগ্রযাত্রা-ই সেবায় অবদান রাখায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক পুরস্কৃত হলো ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান 

 

Digitl  Jessore : Serving Citizens শিরোনামে ৩ দিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শেষ হলো ৬ জুন বৃহস্পতিবার। দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলায় ৪ঠা জুন থেকে  মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।  মেলার শুরুতেই পরিকল্পনা ছিল শুধু তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রদর্শনী নয় সরাসরি হাতে কলমে সেবা প্রদান করিয়ে দেখিয়ে দেয়া। তাইতো যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের মেলা প্রাঙ্গণে এক ছাদের তলায় সমবেত হয়েছিল প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। অনেকটা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মত। ৪ জুন বেলা ১১ টায় উদ্বোধন পূর্ব আলোচনা সভায় যশোর জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ডের মাননীয় নির্বাহী চেয়ারম্যান ডক্টর সৈয়দ এ সামাদ স্যার  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। প্রশাসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল জলিল স্যার। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুগল কান্ট্রি কনসালটেন্ট কাজী মনিরুল কবির স্যার। আলোচক ছিলেন  বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সচিব এনামুল কবির এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল।

 

৬ জুন বেলা ১১টায় ‘‘লার্নিং এন্ড আর্নিং : সম্ভাবনাময় কমসংস্থান’’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বনির্ভর বাংলাদেশের আইটি পরিচালক খালেদ নোমান হোসাইন। আলোচনা করেন ফ্রি ল্যান্সার ডট কমের কান্ট্রি ডিরেক্টার নাবিলা খোরশেদ,ওডেক্স ডট কমের অ্যাম্বাসেডর মাহমুদ হাসান সানি। সেমিনার পরিচালনা করেন স্বনির্ভর  বাংলাদেশের  চিফ অপারেটিং অফিসার মশিউর রহমান।

বিকাল ৪ টায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবাহান শিকদার স্যার। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল জলিল স্যার, খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কাইয়ুম স্যার,খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার সকল জেলা প্রশাসক মহোদয়গণ এবং যশোরের সহকারি পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন ম্যাম।

যশোর জেলায় ই সেবায় অবদান রাখায় ১০টি ক্যাটাগরিতে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।যশোরের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন মাতুববর, শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী  ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ সচিব অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউপি সচিব শরিফুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ সহকারি প্রোগ্রামার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিসিসি সহকারি প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন, শ্রেষ্ঠ ইউআইএসসি উদ্যোক্তা যশোর সদরের আরবপুর ইউআইএসসির এস,এম আরিফুজ্জামান, মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউআইএসসির আসাদুল হক চঞ্চল এবং শার্শা বোনাপোল ইউআইএসসির লাকী রানী বিশ্বাস।

জেলা পযায়ে ১ম জেলা সমবায় অফিস, ২য় এলজিইডি  অফিস এবং ৩য় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। উপজেলা পর্যায়ে ১ম অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ২য় যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ৩য় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। মেলায় শ্রেষ্ঠ স্টল (সরকারি ) ইউনিয়ন  তথ্য ও সেবা কেন্দ্র আরবপুর এবং ( বেসরকারি ) যশোর বিসিএমসি কলেজ নির্বাচিত হয়।

ডিজিটাল যশোরে প্রথম অনলাইনে বিদ্যুত বিল ইউআইএসসির মাধ্যমে চালু করার জন্য সফটওয়্যার নির্মাণ ও বাস্তবায়ণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোস্তফা আশীষ ইসলামকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি ছাড়াও সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন  কবি সাংবাদিক ফখরে আলম,সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সানোয়ার আলম খান দুলু, সুকুমার দাস, আইটি বিশেষজ্ঞ অসিত কুমার মন্ডল এবং বাঘারপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রম্নবিনা গণি।

প্রতিদনি মেলা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সর্ব শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা পরিণত হয়েছিল মিলন মেলায়। সকলের মনোযোগের কেন্দ্র  বিন্দু ছিল ইউআইএসসি আরবপুরের স্টলটি। জেলার ৯১টি ইউআইএসসির প্রতিনিধি হিসাবে মেলায় একটি মাত্র ইউআইএসসির স্টল ছিল। বাশের ঘর,গমের ছণের চালা, বাবুই পাখির বাসা, কলা ও কলার মোচা সমেত কলাগাছের গেট, ছিকা ,মাটির হাড়ি, খেজুরের পাতার ফুল, বাউল গাণের মূর্ছনা আর গ্রামীণ আদলে তৈরী স্টলের উপরে কবুতরের বাসা সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল ফিরে  চল মাটির টানে।মাটির সোধা গন্ধে এখন মৌ মৌ করছে তথ্য প্রযুক্তির সুরভী। আনন্দের মাত্রা বাড়াতে সুদুর সুনামগঞ্জ থেকে জাতীয় বর্ষসেরা তারকা উদ্যেক্তা মনোয়ার হোসেন হিমেল ভাই উপস্থিত হয়েছিলেন।এসেছিলেন মাগুরার মুক্তি ভাই, সাতক্ষীরার লিমন খান, আব্দুলস্নাহ আল আমিন রনি, মিঠুন সাহা, জি এম আজিজ ভাই সহ আরো অনেকে। যশোর জেলার উদ্যোক্তাদের সাথে অন্যজেলার উদ্যোক্তার মিল বন্ধনে সৃষ্টি হয়েছিল আবেগঘণ পরিবেশের। মেলা শেষ হলেও ভিন্নধারায় শুরু হলো উদ্যেক্তাদের মাঝে আন্ত:সম্পর্ক উন্নয়ন। যা যশোর থেকে ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter