মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

খাদ্য উৎপাদন

খেদাপাড়া ইউনিয়নের  উৎপাদিত শস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শস্য হচ্ছে ধান। ধানের পরেই পাটের স্থান। এরপরে যেসব কৃষিজাত দ্রব্যের নাম করতে হয় সেগুলো হচ্ছে মাসকলাই, মটর, ছোলা ইত্যাদি ডাল জাতীয় শস্য। তৈল বীজের মধ্যে রয়েছে  সরিষা ও তিল।  কাউন, চিনা, ধুন্দা, গম, যব জাতীয় খাদ্য শস্য  উৎপন্ন হয়। এখানকার উল্লেখযোগ্য ফল হচ্ছে ফুটি (বাঙ্গি), তরমুজ, ক্ষীরা ইত্যাদি। এছাড়াও এ জেলায় আম, জাম,কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, জাম্বুরা (বাতাবি লেবু), লেবু, তেঁতুল, কামরাঙ্গা, জলপাই, বেল, ডালিম, আতা ইত্যাদি ফলও প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, আদা ইত্যাদি মসলা জাতীয় শস্য, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, উচ্ছে, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুন্দুল, শিম, বরবটি, কাকরল, ঢেড়শ, গোল আলু, বেগুন, টমেটো ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি সবজি প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়।

 

২০১৩-২০১৪ ইং সনের ফসলের উৎপাদন

ক্র:নং

ফসলের নাম

আবাদী জমি

(হেক্টর)

উৎপাদিত ফসল

(প্রতি হেক্টরে)

মোট উৎপাদিত ফসল

(মেট্রিক টন)

ধান

৮৯০ হেক্টর

৭.২০০ মে.টন

৬৪০৮.০০০ মে.টন

কলা

১০ হেক্টর

২০.০০০ টন

২০০.০০০ মে.টন

আম

৮ হেক্টর

৪০.০০০ টন

৩২০.০০০ মে.টন

ঘাস(গোখাদ্য)

৮ হেক্টর

৬০.০০০ মে.টন

৪৮০.০০০ মে.টন

 

এছাড়া সরকার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে মর্মে বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও বাস্তবতার সাথে তার মিল নেই। সরকারি ডকুমেন্টেই প্রমাণ রয়েছে যে সরকার চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট ২৮.৪৩ লাখ টন খাদ্যশস্য বিদেশ থেকে আমদানি করেছে। অর্থাৎ বছরের ৯ মাসেই এই পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়া ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৫’ বইয়েই এই তথ্য দেয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বাজেটের সময় অর্থনৈতিক সমীক্ষা বইটিও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমীক্ষায় দেখা যায়, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই অর্থাৎ জুলাই ২০১৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মাস পর্যন্ত মোট চাল আমদানি হয়েছে ৮.৬৯ লাখ টন। একই সময়ে গম আমদানি হয়েছে ১৯.৭৪ লাখ টন। সব মিলিয়ে এই ৯ মাসে মোট খাদ্য আমদানি হয়েছে ২৮.৪৩ লাখ টন। সমীক্ষায় বলা হয়, এর মধ্যে সরকারি খাতে ০.৭২ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে বলে। বাকি ২৭.৭১ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে বেসরকারি খাতে। এর মধ্যে চাল ৮.৬৯ লাখ টন এবং গম ১৯.০২ লাখ টন। এতে বলা হয় চলতি বছর সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। উপরন্তু বাম্পার ফলন, বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সন্তোষজনক মজুদ পরিস্থিতির কারণে উৎসাহিত হয়ে সরকার ২৫ হাজার টন মোটা চাল শ্রীলংকায় রফতানি করেছে। চাল রফতানির এই ঘটনা এটাই প্রথম বলেও সমীক্ষায় বলা হয়েছে।
২০১৫ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে খাদ্য শস্যের মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে আউশ ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন, আমন ১ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টন, বোরো ১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার টন, গম ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টন এবং ভুট্টা ২৫ লাখ ২১ হাজার টন। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে খাদ্য শস্যের মোট উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার টন। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্যের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টন।
খাদ্য শস্যের আমদানি প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আরো বলা হয়, বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলে মোট খাদ্য শস্যের আমদানির পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ২৪ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ৩ লাখ ৭৪ হাজার টন এবং গম ২৭ লাখ ৫০ হাজার টন আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে মোট ৯ লাখ ৮৮ হাজার টন খাদ্য শস্য আমদানি করা হয় বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাকী ২১ লাখ ৩৬ হাজার টন খাদ্য বেসরকারি খাতে আমদানি করা হয়। ঐ বছর বেসরকারি খাতে চাল আমদানি করা হয় ৩ লাখ ৭১ হাজার টন এবং গম আমদানি করা হয় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter